সংবাদ শিরোনাম ::
চৌহালীতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ৩ জনকে জরিমানা চৌহালীর স্থল ইউনিয়নে ভিজিএফ চাল বিতরণ চৌহালী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ঈদ সামগ্রী বিতরণ বেলকুচিতে ৮ বছরের মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার এনায়েতপুরে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১জন নিহত চৌহালীতে জাটকা নিধন প্রতিরোধে জনসচেতনতা সভা অনুষ্ঠিত চৌহালীতে দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস ২০২৫ পালিত ঢাকাস্থ চৌহালী উপজেলা কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত চৌহালী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের আংশিক কমিটি গঠন চৌহালীতে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে আহতদের প্রশাসনের আর্থিক সহযোগিতা

চিকিৎসক ধর্ষণ-হত্যা: দুই বিখ্যাত চিকিৎসককে তলব করে বিব্রত কলকাতা পুলিশ, বিক্ষোভ অব্যাহত

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৫১:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৪
  • ২৯০ বার পড়া হয়েছে

কলকাতার আর জি কর হাসপাতালে নারী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে ১১ দিনের মতো আজ সোমবারও ভারতের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ হয়েছে। এর মধ্যে কলকাতার দুই বিশিষ্ট চিকিৎসককে তলব করে উল্টো বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়েছে কলকাতার পুলিশ।

কলকাতা পুলিশ আজ চিকিৎসক কুনাল সরকার ও সুবর্ণ গোস্বামীকে ডেকে পাঠিয়েছিল। বেলা তিনটায় কলকাতা পুলিশের সদর দপ্তর লালবাজারে তাঁদের হাজির হতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁরা ধর্ষণ ও হত্যার শিকার ওই নারী চিকিৎসকের পরিচয় প্রকাশ্যে এনেছেন এবং হত্যাকাণ্ড নিয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়েছেন।

সমন পাওয়ার পর ওই দুই চিকিৎসক অন্য চিকিৎসকদের সঙ্গে করে মিছিল নিয়ে লালবাজারে রওনা হলে পুলিশ তাঁদের বউবাজার মোড়ে আটকে দেয়। পরে নিজেদের আইনজীবীদের নিয়ে ওই দুই চিকিৎসক লালবাজারে যান। সেখানে তাঁরা পুলিশ কর্তাদের কাছে জানতে চান, এভাবে তলব করার কারণ কী? তাঁরা তো কোনো মিথ্যে খবর প্রচার করেননি।

চিকিৎসকদের এমন কথায় বিব্রত পরিস্থিতিতে পড়ে পুলিশ। উত্তরে তাঁরা বলে, ‘আমরা চাই, চিকিৎসকেরা রাজ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা রাখুন।’ পরে পুলিশ তাঁদের বিরুদ্ধে জারি করা সমন বাতিল করে।

যাওয়ার আগে দুই চিকিৎসক বলে যান, চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিলে বা বিনা কারণে সমন পাঠানো হলে, চিকিৎসকেরা আর পুলিশকে ছেড়ে কথা বলবেন না। প্রতিবাদের ঝড় উঠবে দেশজুড়ে।

এদিকে আজও কলকাতায় জুনিয়র চিকিৎসকেরা কর্মবিরতি পালন করেছেন। প্রতিবাদ মিছিল করেছেন ন্যাশনাল হাসপাতাল থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত। কলকাতার বিভিন্ন এলাকাসহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় চিকিৎসক ও সাধারণ মানুষ বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, আজ রাজধানী নয়াদিল্লিতেও কিছু চিকিৎসক কর্মবিরতি পালন করেন। জরুরি নয়, এমন চিকিৎসাসেবা বন্ধ রাখা হয়। তবে কর্মবিরতিতে থাকা চিকিৎসকেরা ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বাইরে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার ঘোষণা দেন।

আজ কলকাতার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও বিশাল এক প্রতিবাদ মিছিল বের হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি তাতে চিকিৎসকেরা যোগ দেন। মিছিল শহরের এইট-বি বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু হয়ে যাদবপুর থানা পর্যন্ত যায়।

বিকেলে কলকাতার একাডেমি অব ফাইন আর্টসের সামনে কলকাতার কলাকুশলীরা অভিনেতা সাহেব চ্যাটার্জির নেতৃত্বে এক প্রতিবাদ সভায় যোগ দেন। কলকাতার চিত্র ও ভাস্কর্যশিল্পীরা এই একাডেমি চত্বরে আরেকটি প্রতিবাদ সভার আয়োজন করেন। এতে যোগ দেন শিল্পী সমীর আইচ, গণেশ হালুই, সনাতন বিন্দা, দেবাশীষ রায় চৌধুরী প্রমুখ শিল্পী। এখানে তাঁদের রংতুলি আর ভাস্কর্যে ফুটিয়ে তোলেন প্রতিবাদের ভাষা।

রোববার দিবাগত রাতে কলকাতা শহরে প্রতিদ্বন্দ্বী ইস্ট বেঙ্গল ও মোহনবাগানের ফুটবল ভক্তদের পাশাপাশি মিছিল করাটা সবার নজর কেড়েছে। আজ ভোর পর্যন্ত তাঁরা রাস্তায় থাকেন।

মোহনবাগানের সমর্থক বাবুল মুখার্জি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘(ভুক্তভোগী) ডাক্তার ও তাঁর পরিবারের জন্য বিচারের মতো একটি সাধারণ দাবিতে আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভুলে গেছি। কারণটি আমাদের ক্লাবের চেয়ে বড়। এমনকি রাজনীতির চেয়েও বড়।’

কলকাতার একাডেমি অব  ফাইন আর্টসের সামনে বিজেপির নারী সমর্থকেরাও একটি সমাবেশ করেন। বিজেপির নেত্রী পাপিয়া অধিকারী ও শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে প্রতিবাদ সমাবেশে অনুষ্ঠিত হয়। বিজেপি আজ অন্যদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও জেরা করতে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার (সিবিআই) প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

তৃণমূলের সংসদ সদস্য সুখেন্দু শেখর রায় গতকাল দাবি জানিয়েছিলেন, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে কলকাতার পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল ও কলেজের অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষকে গ্রেপ্তার করে সিবিআই জেরা করুক। সিবিআই শুক্র, শনি ও রোববার অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষকে এরই মধ্যে ৩৭ ঘণ্টা জেরা করেছে। আজও তাঁর জেরা চলেছে।

৯ আগস্ট উত্তর কলকাতার আর জি কর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সভাকক্ষে এক নারী চিকিৎসকের মরদেহ পাওয়া যায়। দীর্ঘ ৩৬ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন শেষে ওই দিন রাতে তিনি সেখানে বিশ্রাম নিতে গিয়েছিলেন। ৩১ বছর বয়সী ওই নারী চিকিৎসকের মরদেহটি ছিল রক্তাক্ত, শরীরের নানা জায়গায় জখমের চিহ্ন ছিল।

ময়নাতদন্তে বলা হয়েছে, ওই নারী চিকিৎসককে শ্বাসরোধে মারা হয়েছিল। তাঁর শরীরের বাইরের অংশে ১৬টি ও ভেতরে ৯টি ক্ষতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। যৌন নির্যাতনেরও আলামত পাওয়া গেছে।

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
DNB News

জনপ্রিয় সংবাদ

চৌহালীতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ৩ জনকে জরিমানা

চিকিৎসক ধর্ষণ-হত্যা: দুই বিখ্যাত চিকিৎসককে তলব করে বিব্রত কলকাতা পুলিশ, বিক্ষোভ অব্যাহত

আপডেট সময় : ১০:৫১:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৪

কলকাতার আর জি কর হাসপাতালে নারী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে ১১ দিনের মতো আজ সোমবারও ভারতের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ হয়েছে। এর মধ্যে কলকাতার দুই বিশিষ্ট চিকিৎসককে তলব করে উল্টো বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়েছে কলকাতার পুলিশ।

কলকাতা পুলিশ আজ চিকিৎসক কুনাল সরকার ও সুবর্ণ গোস্বামীকে ডেকে পাঠিয়েছিল। বেলা তিনটায় কলকাতা পুলিশের সদর দপ্তর লালবাজারে তাঁদের হাজির হতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁরা ধর্ষণ ও হত্যার শিকার ওই নারী চিকিৎসকের পরিচয় প্রকাশ্যে এনেছেন এবং হত্যাকাণ্ড নিয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়েছেন।

সমন পাওয়ার পর ওই দুই চিকিৎসক অন্য চিকিৎসকদের সঙ্গে করে মিছিল নিয়ে লালবাজারে রওনা হলে পুলিশ তাঁদের বউবাজার মোড়ে আটকে দেয়। পরে নিজেদের আইনজীবীদের নিয়ে ওই দুই চিকিৎসক লালবাজারে যান। সেখানে তাঁরা পুলিশ কর্তাদের কাছে জানতে চান, এভাবে তলব করার কারণ কী? তাঁরা তো কোনো মিথ্যে খবর প্রচার করেননি।

চিকিৎসকদের এমন কথায় বিব্রত পরিস্থিতিতে পড়ে পুলিশ। উত্তরে তাঁরা বলে, ‘আমরা চাই, চিকিৎসকেরা রাজ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা রাখুন।’ পরে পুলিশ তাঁদের বিরুদ্ধে জারি করা সমন বাতিল করে।

যাওয়ার আগে দুই চিকিৎসক বলে যান, চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিলে বা বিনা কারণে সমন পাঠানো হলে, চিকিৎসকেরা আর পুলিশকে ছেড়ে কথা বলবেন না। প্রতিবাদের ঝড় উঠবে দেশজুড়ে।

এদিকে আজও কলকাতায় জুনিয়র চিকিৎসকেরা কর্মবিরতি পালন করেছেন। প্রতিবাদ মিছিল করেছেন ন্যাশনাল হাসপাতাল থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত। কলকাতার বিভিন্ন এলাকাসহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় চিকিৎসক ও সাধারণ মানুষ বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, আজ রাজধানী নয়াদিল্লিতেও কিছু চিকিৎসক কর্মবিরতি পালন করেন। জরুরি নয়, এমন চিকিৎসাসেবা বন্ধ রাখা হয়। তবে কর্মবিরতিতে থাকা চিকিৎসকেরা ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বাইরে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার ঘোষণা দেন।

আজ কলকাতার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও বিশাল এক প্রতিবাদ মিছিল বের হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি তাতে চিকিৎসকেরা যোগ দেন। মিছিল শহরের এইট-বি বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু হয়ে যাদবপুর থানা পর্যন্ত যায়।

বিকেলে কলকাতার একাডেমি অব ফাইন আর্টসের সামনে কলকাতার কলাকুশলীরা অভিনেতা সাহেব চ্যাটার্জির নেতৃত্বে এক প্রতিবাদ সভায় যোগ দেন। কলকাতার চিত্র ও ভাস্কর্যশিল্পীরা এই একাডেমি চত্বরে আরেকটি প্রতিবাদ সভার আয়োজন করেন। এতে যোগ দেন শিল্পী সমীর আইচ, গণেশ হালুই, সনাতন বিন্দা, দেবাশীষ রায় চৌধুরী প্রমুখ শিল্পী। এখানে তাঁদের রংতুলি আর ভাস্কর্যে ফুটিয়ে তোলেন প্রতিবাদের ভাষা।

রোববার দিবাগত রাতে কলকাতা শহরে প্রতিদ্বন্দ্বী ইস্ট বেঙ্গল ও মোহনবাগানের ফুটবল ভক্তদের পাশাপাশি মিছিল করাটা সবার নজর কেড়েছে। আজ ভোর পর্যন্ত তাঁরা রাস্তায় থাকেন।

মোহনবাগানের সমর্থক বাবুল মুখার্জি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘(ভুক্তভোগী) ডাক্তার ও তাঁর পরিবারের জন্য বিচারের মতো একটি সাধারণ দাবিতে আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভুলে গেছি। কারণটি আমাদের ক্লাবের চেয়ে বড়। এমনকি রাজনীতির চেয়েও বড়।’

কলকাতার একাডেমি অব  ফাইন আর্টসের সামনে বিজেপির নারী সমর্থকেরাও একটি সমাবেশ করেন। বিজেপির নেত্রী পাপিয়া অধিকারী ও শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে প্রতিবাদ সমাবেশে অনুষ্ঠিত হয়। বিজেপি আজ অন্যদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও জেরা করতে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার (সিবিআই) প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

তৃণমূলের সংসদ সদস্য সুখেন্দু শেখর রায় গতকাল দাবি জানিয়েছিলেন, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে কলকাতার পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল ও কলেজের অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষকে গ্রেপ্তার করে সিবিআই জেরা করুক। সিবিআই শুক্র, শনি ও রোববার অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষকে এরই মধ্যে ৩৭ ঘণ্টা জেরা করেছে। আজও তাঁর জেরা চলেছে।

৯ আগস্ট উত্তর কলকাতার আর জি কর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সভাকক্ষে এক নারী চিকিৎসকের মরদেহ পাওয়া যায়। দীর্ঘ ৩৬ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন শেষে ওই দিন রাতে তিনি সেখানে বিশ্রাম নিতে গিয়েছিলেন। ৩১ বছর বয়সী ওই নারী চিকিৎসকের মরদেহটি ছিল রক্তাক্ত, শরীরের নানা জায়গায় জখমের চিহ্ন ছিল।

ময়নাতদন্তে বলা হয়েছে, ওই নারী চিকিৎসককে শ্বাসরোধে মারা হয়েছিল। তাঁর শরীরের বাইরের অংশে ১৬টি ও ভেতরে ৯টি ক্ষতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। যৌন নির্যাতনেরও আলামত পাওয়া গেছে।