সংবাদ শিরোনাম ::
চৌহালীতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ৩ জনকে জরিমানা চৌহালীর স্থল ইউনিয়নে ভিজিএফ চাল বিতরণ চৌহালী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ঈদ সামগ্রী বিতরণ বেলকুচিতে ৮ বছরের মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার এনায়েতপুরে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১জন নিহত চৌহালীতে জাটকা নিধন প্রতিরোধে জনসচেতনতা সভা অনুষ্ঠিত চৌহালীতে দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস ২০২৫ পালিত ঢাকাস্থ চৌহালী উপজেলা কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত চৌহালী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের আংশিক কমিটি গঠন চৌহালীতে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে আহতদের প্রশাসনের আর্থিক সহযোগিতা

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত সামিদের পরিবারকে তারেক রহমানের উপহার সামগ্রী বিতরণ

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৪২:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪
  • ১৯১ বার পড়া হয়েছে

মুক্তাগাছা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধিঃ

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন অতঃপর দেশের আপামর মুক্তিকামী মানুষ এবং ছাত্রজনতার ঐক্যে স্বৈরাচারবিরোধী এক দফার আন্দোলনে রাজধানীর উত্তরা বিএনসিসি এলাকায় পুলিশের গুলিতে নিহত ময়মনসিংহ- মুক্তাগাছার শহীদ মোঃ সামিদ হোসেনের (১৭) পরিবারের পাশে দাঁড়ালো বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি পরিবার।

জানা যায়, মুক্তাগাছার মানকোন গ্রামের বাসিন্দা মো. ফরহাদ মিয়া ও তার স্ত্রী শিল্পী আক্তার ঢাকার টঙ্গীর চেরাগআলীতে বসবাস করেন। পরের বাড়িতে কেয়ারটেকারের কাজ করেন মোঃ ফরহাদ মিয়া এবং একই এলাকায় তার স্ত্রী শিল্পী আক্তার পরের বাড়িতে কাজ করেন। এভাবেই কষ্ট করে দুই ছেলেকে লেখাপড়া করাতেন তারা।

গত ০৫ আগস্ট রাজধানীর উত্তরা আজিমপুর বিএনএস ভবনের সামনে পুলিশের গুলি সামিদের মাথায় এসে লাগে। পাশেই থাকা বন্ধু শাকিল এগিয়ে এলে তার বুকেও গুলি করে পুলিশ। শাকিল বেঁচে থাকলেও কুয়েতে মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে মৃত্যু হয় সামিদ হোসেনের। পরের দিন ০৬ আগস্ট মুক্তাগাছা উপজেলার মানকোন বটতলা তেঘুড়ি নিজ গ্রামের বাড়িতে সামিদের দাফন কাজ সম্পন্ন হয়।

সামিদের পরিবার জানায় -সংসারের বড় ছেলেকে হারিয়ে আমরা সর্বশান্ত হয়ে গেছি। আমাদের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। এতো দিন হয়ে গেল কেউ আমাদের পাশে দাঁড়ায়নি এমনকি কোনো সহযোগিতাও করেননি কেউ। এখন আল্লাহ আমার একমাত্র ভরসা।

বড় ছেলে হারানোর পাহাড় সমান কষ্ট নিয়ে অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে মনের জমানো আক্ষেপের কথাগুলো বলেন পুলিশের গুলিতে নিহত মুক্তাগাছা উপজেলার মানকোন গ্রামের বাসিন্দা মো. ফরহাদ মিয়া ও তার স্ত্রী শিল্পী আক্তার।

ছেলের শোকে পাথর বাবা ফরহাদ মিয়া আরো জানান, দুই ছেলের মধ্যে সামিদ আমার  বড় ছেলে। ওকে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার বানাতে কিশোরগঞ্জ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে রেফ্রিজারেশন অ্যান্ড এয়ারকন্ডিশন কোর্সে ভর্তি করা হয়। পরের বাড়িতে কাজ করে দুই ছেলের লেখাপড়ার খরচ চালায়। বড় ছেলেকে নিয়ে পরিবারের অনেক স্বপ্ন ছিল কিন্তু এভাবে আমাদের স্বপ্ন মাটিতে মিশে যাবে কল্পনাও করিনি। আমি সকলের কাছে আমার পরিবারের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের এবং আমাদেরকে সার্বিক সাহায্য সহযোগিতার দাবি রাখছি।

এছাড়া আমার একটি ছোট ছেলে আছে (সাকিব-১৫) সে নবম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে। তার চাকরির ক্ষেত্রে বিষয়টি যেন আমলে নেওয়া হয়। সর্বোপরি আমার ছেলের মৃত্যু শহিদের স্বীকৃতি দাবি রাখছি সেই সাথে আমার ছেলের অপ্রত্যাশিত মৃত্যূর দায়ভার রাষ্ট্রকে নিয়ে সাংবিধানিক আইন-কানুন অনুযায়ী দোষিদের আইনের আওতায় এনে সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানাচ্ছি।  নতুন এক সূর্যের আলোয় আলোকিত হয়েছে গোটা বাংলাদেশ।

এবার  শহীদ সামিদের পরিবারের পাশে দাঁড়ালো  বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার নির্দেশনায় শহীদ মো: সামিদ হোসেনের শোকাহত পরিবারকে সমবেদনা জ্ঞ্যাপন, সামিদের গ্রামের বাড়ির সড়ক নিহত শহীদ সামিদের নামে নামকরণ ও তারেক রহমানের উপহার সামগ্রী এবং নগদ অর্থ তহবিল প্রদান করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পরিবার এবং সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিল মুক্তাগাছা পৌর ছাত্রদল।

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
DNB News

জনপ্রিয় সংবাদ

চৌহালীতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ৩ জনকে জরিমানা

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত সামিদের পরিবারকে তারেক রহমানের উপহার সামগ্রী বিতরণ

আপডেট সময় : ০৪:৪২:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪

মুক্তাগাছা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধিঃ

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন অতঃপর দেশের আপামর মুক্তিকামী মানুষ এবং ছাত্রজনতার ঐক্যে স্বৈরাচারবিরোধী এক দফার আন্দোলনে রাজধানীর উত্তরা বিএনসিসি এলাকায় পুলিশের গুলিতে নিহত ময়মনসিংহ- মুক্তাগাছার শহীদ মোঃ সামিদ হোসেনের (১৭) পরিবারের পাশে দাঁড়ালো বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি পরিবার।

জানা যায়, মুক্তাগাছার মানকোন গ্রামের বাসিন্দা মো. ফরহাদ মিয়া ও তার স্ত্রী শিল্পী আক্তার ঢাকার টঙ্গীর চেরাগআলীতে বসবাস করেন। পরের বাড়িতে কেয়ারটেকারের কাজ করেন মোঃ ফরহাদ মিয়া এবং একই এলাকায় তার স্ত্রী শিল্পী আক্তার পরের বাড়িতে কাজ করেন। এভাবেই কষ্ট করে দুই ছেলেকে লেখাপড়া করাতেন তারা।

গত ০৫ আগস্ট রাজধানীর উত্তরা আজিমপুর বিএনএস ভবনের সামনে পুলিশের গুলি সামিদের মাথায় এসে লাগে। পাশেই থাকা বন্ধু শাকিল এগিয়ে এলে তার বুকেও গুলি করে পুলিশ। শাকিল বেঁচে থাকলেও কুয়েতে মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে মৃত্যু হয় সামিদ হোসেনের। পরের দিন ০৬ আগস্ট মুক্তাগাছা উপজেলার মানকোন বটতলা তেঘুড়ি নিজ গ্রামের বাড়িতে সামিদের দাফন কাজ সম্পন্ন হয়।

সামিদের পরিবার জানায় -সংসারের বড় ছেলেকে হারিয়ে আমরা সর্বশান্ত হয়ে গেছি। আমাদের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। এতো দিন হয়ে গেল কেউ আমাদের পাশে দাঁড়ায়নি এমনকি কোনো সহযোগিতাও করেননি কেউ। এখন আল্লাহ আমার একমাত্র ভরসা।

বড় ছেলে হারানোর পাহাড় সমান কষ্ট নিয়ে অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে মনের জমানো আক্ষেপের কথাগুলো বলেন পুলিশের গুলিতে নিহত মুক্তাগাছা উপজেলার মানকোন গ্রামের বাসিন্দা মো. ফরহাদ মিয়া ও তার স্ত্রী শিল্পী আক্তার।

ছেলের শোকে পাথর বাবা ফরহাদ মিয়া আরো জানান, দুই ছেলের মধ্যে সামিদ আমার  বড় ছেলে। ওকে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার বানাতে কিশোরগঞ্জ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে রেফ্রিজারেশন অ্যান্ড এয়ারকন্ডিশন কোর্সে ভর্তি করা হয়। পরের বাড়িতে কাজ করে দুই ছেলের লেখাপড়ার খরচ চালায়। বড় ছেলেকে নিয়ে পরিবারের অনেক স্বপ্ন ছিল কিন্তু এভাবে আমাদের স্বপ্ন মাটিতে মিশে যাবে কল্পনাও করিনি। আমি সকলের কাছে আমার পরিবারের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের এবং আমাদেরকে সার্বিক সাহায্য সহযোগিতার দাবি রাখছি।

এছাড়া আমার একটি ছোট ছেলে আছে (সাকিব-১৫) সে নবম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে। তার চাকরির ক্ষেত্রে বিষয়টি যেন আমলে নেওয়া হয়। সর্বোপরি আমার ছেলের মৃত্যু শহিদের স্বীকৃতি দাবি রাখছি সেই সাথে আমার ছেলের অপ্রত্যাশিত মৃত্যূর দায়ভার রাষ্ট্রকে নিয়ে সাংবিধানিক আইন-কানুন অনুযায়ী দোষিদের আইনের আওতায় এনে সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানাচ্ছি।  নতুন এক সূর্যের আলোয় আলোকিত হয়েছে গোটা বাংলাদেশ।

এবার  শহীদ সামিদের পরিবারের পাশে দাঁড়ালো  বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার নির্দেশনায় শহীদ মো: সামিদ হোসেনের শোকাহত পরিবারকে সমবেদনা জ্ঞ্যাপন, সামিদের গ্রামের বাড়ির সড়ক নিহত শহীদ সামিদের নামে নামকরণ ও তারেক রহমানের উপহার সামগ্রী এবং নগদ অর্থ তহবিল প্রদান করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পরিবার এবং সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিল মুক্তাগাছা পৌর ছাত্রদল।